ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ দূর করার উপায়

লাবণ্যময় উজ্জ্বল ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে ব্রণ, এই ব্রণ তরুণ বয়সে ছেলে-মেয়ে উভয়ের হয়ে থাকে। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের মুখে ব্রণ বেশি হয়। ত্বকের তৈলগ্রন্থি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে তখন এর আকৃতি বেড়ে যায়, যা জন্য এর ভিতরে পুঁজ জমতে থাকে, যা ধীরে ধীরে ব্রণ এ রূপ নেয়। ব্রণ ওঠার অন্যতম কারণ হচ্ছে অপরিষ্কার ত্বক। বাজারের বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকাল জাতীয় পণ্যের সাহায্য না নিয়ে ঘরোয়া উপায়ে ব্রণ করা যায়। আর এগুলোতে কোন পার্শপ্রক্রিয়াও থাকে না। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হলে ব্রণ কমে যায়, তাছড়া বাইরে থেকে এসে মুখ ধুয়ে নিলেও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কারণ বাহিরে গেলে ত্বকে অনেক ধূলাবালি পড়ে যা ত্বকরে জন্য খুবই ক্ষতিকর।

চালের গুড়া, মধু ও শসা

শসার রস চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে যেমন উপকারী তেমনি ব্রণ দূর করতেও বেশ কার্যকরী উপাদান, এটি ত্বকে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে শসার রসের সাথে মধু ও চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিয়ে হবে। তবে যাদের অ্যালার্জি আছে তারা সমস্যা হলে মধু ব্যবহার করবেন না। শসা, মধু ও চালের গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল তো হবেই সেই সাথে ত্বকের ময়লা কাটবে ও ত্বক পরিষ্কার হবে। তবে ব্রণ থাকলে স্ক্রাব না করাই সবচেয়ে ভালো। কারণ এতে ব্রণ বেশি হতে পারে ও নানা রকম সমস্যা হতে পারে।

অন্যদিকে শসায় রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। এই সব ভিটামিন ত্বকের খুবই উপকারী। শসা অন্যভাবেও ব্যবহার করা যায়, শসা গোল গোল করে কেটে প্রায় এক ঘন্টার মতো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর সেই পানি দিয়ে মুখ ধুতে পারেন আবার সেই পানি পান করতে পারেন, এতে ভালো ফলাফল পাবেন।

আপেল ও মধু

আপেল ও মধু দিয়ে খুব সহজে ব্রণ দূর করা যায় এবং এটি একটি ঘরোয়া টিপস। আপেল ভালো ভাবে পেস্ট করে নিয়ে তাতে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর ভালো করে পেস্টটি গলা সহ মুখে লাগিয়ে ২৫/৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এই পেস্টেটি ত্বকের রং হালকা করে ও ত্বক টানটান করে, ব্রণের দাগ কমায়।

কাঁচা হলুদ ও চন্দনকাঠের গুঁড়া

চন্দনকাঠের গুঁড়া ও কাঁচা হলুদ ব্রণের জন্য অধিক উপকারী দুটি উপাদান। পরিমাণ মত চন্দনকাঠের গুঁড়া ও কাঁচা হলুদ সামান্য পরিমাণ দিয়ে পানি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এরপর মুখের ব্রণে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি শুধুমাত্র ব্রণ দূর করে না ব্রণের দাগও কমাতে সহায়তা করে।

তুলসি পাতার রস

তুলসি গাছ কম বেশি প্রায় সকলের বাড়িতে দেখা যায়, এই তুলসি পাতায় রয়েছে আয়ূর্বেদিক গুণ যা অনেক কাজে লাগে। তুলসি পাতার রস ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ‍কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই তুলসি পাতা রসের সাহায্যে ব্রণ ও ব্রণের দাগ থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া যায়।

ডিমের সাদা অংশ

ডিমের সাদা অংশ ব্রণের জন্য বেশ উপকারী। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। ডিমের সাদা অংশ ব্রণের স্থানে লাগিয়ে রাখলে এটি ত্বকের খসখসে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। ডিমের সাথে লেবুর রস মিশালে আরো ভালো হয় এবং এটি ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

পেঁপে ও চালের গুড়া

ত্বকে ব্রণ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো ত্বকের ভালো মত যত্ন না নেয়া। ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে হলে সবসময় ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে ও ত্বক তৈলাক্ত হতে দেয়া যাবে না। তাছাড়া নিয়মিত স্ক্রাবিং করলে ত্বক পরিষ্কার থাকে। এক কাপ পাকা পেঁপে ভালো করে চটকে নিয়ে এর সাথে লেবুর রস ও পরিমাণ মত চালের গুঁড়া মিশিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে নিন। মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে সেটি মুখে লাগান এবং ২৫/৩০ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ভালো ফলাফল পাবেন। পেঁপে ত্বকের জন্য বেশ উপকারী, এতে ভিটামিনও রয়েছে। 

ব্রণের দাগ দূর করতে অ্যালোভেরা

মুলতানি মাটি ও নিম পাতা

নিম পাতার রস অনেক উপকারী। এটি বিভিন্ন রোগ নিরাময় করতে ব্যবহার করা হয়। পরিমাণ মত কয়েকটা নিম পাতা নিয়ে ভালো করে ধুয়ে বেটে নিন, বেটে নেয়া নিম পাতা থেকে রস বের করে নিয়ে তার এক চা চামচ মুলতানি মাটি ও সামান্য পরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। প্যাক তৈরি হয়ে গেলে মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং প্যাকটি শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ব্যবহারে ব্রণ কমে যাবে, মুখের বিভিন্ন ধরনের ফুসকুড়ি দূর হয়ে যাবে। 

পুদিনা পাতা

ত্বকের জন্য পুদিনা পাতা বেশ উপকারী উপাদান। প্রচন্ড গরমে মুখে অনেক ফুসকুড়ি ও ব্রণ উঠে থাকে। এসব ফুসকুড়ি দূর করতে পুদিনা পাতা অধিক কার্যকর। টাটকা পুদিনা পাতা বেটে ব্রণের উপর লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কিছু দিন ব্যবহারের পর ব্রণ উঠা কমে যাবে এবং ব্রণের দাগও হালকা হবে।

মধু, লেবুর রস ও ময়দা

মুখের ব্রণ, বিভিন্ন ধরনের দাগ ও তৈলাক্ত ভাব দূর করতে মধু, লেবুর রস এবং ময়দা কার্যকারী উপাদান। যুগ যুগ ধরে রূপচর্চায় মধু ব্যবহার হয়ে আসছে, আবার লেবুতে ভিটামিন সি রয়েছে যা ত্বকরে জন্য খুবই উপকারী এবং ময়দা মুখের ময়লা কেটে ত্বক উজ্জ্বল করে। পরিমাণ মত ময়দা, লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগান এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্রণ দূর করে, দাগ ছোপ কমায় এবং ত্বক গ্লো করতে সাহায্য করে। 

টুথপেস্ট

টুথপেস্ট ব্রণে ভালো কাজ করে। টুথপেস্ট মুখের অতিরিক্ত তেল কমাতে প্রচুর কাজ করে। যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত আর এই তৈলাক্তের কারণে মুখে অতিরিক্ত ব্রণ ও গোটা বের হয় তারা টুথপেস্ট ব্যবহার করে খুবই উপকার পাবেন। তবে বেশি ব্যবহার করা যাবে না, ব্রণের উপর সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করতে পারেন। 

রসুন

রসুন এমন একটি উপাদান যা শুধু খাওয়াই যায় না, এটি ব্রণের চড়ম শত্রু। এক-দুইটা রসুনে কোয়া টুকরা করে ৫/৭ মিনিট ব্রণের স্থানে লাগিয়ে রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। রাতে ঘুমানোর আগে এটি করলে কয়েকদিন দিন এর মধ্যেই নিজেই ত্বকের উন্নতি ও পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

গ্রিন টি

গ্রিন টি ব্রণের জন্য প্রচুর কার্যকারী উপাদান। পানি ফুটিয়ে গ্রিন টি বানান তারপর সেই পানি ঠান্ডা করে ব্রণের জায়গায় লাগান। গ্রিন টি ব্রণের স্থানে লাগানোর জন্য তুলা ব্যবহার করতে পারেন, কারণ তুলা ব্রণের উপর ভালোভাবে চায়ের মিশ্রণটি মিশাতে পারবে। চায়ের তৈরি মিশ্রণটি লাগানোর পর ৩/৪ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

অ্যাসপিরিন

অ্যাসপিরিন শুধু খাওয়ার ওষুধ হিসেবেই কাজ করে না, এটি ব্রণ সারাতেও কাজ করে। অ্যাসপিরিনে থাকা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ব্রণ তাড়াতাড়ি শুকাতে সহায়তা করে। পরিমাণ মত পানি নিয়ে তাতে ৪/৫ টা ট্যাবলেট গুঁড়া করে ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং ১৫/২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন, আবার রাত ঘুমানোর আগে ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রাখে সকালে ধুয়ে ফেলতে পারেন। তাহলে ব্রণ অনেকটা কমে যাবে ও ত্বক উজ্জ্বল হবে। 

উপরের উপকরণ ছাড়াও আরো প্রচুর উপকরণ রয়েছে যা ব্যবহার করে ব্রণ মুক্ত থাকা যায়। সর্বশেষে বলা যায় যে বাজারে ব্রণ দূর করার বিভিন্ন ক্রিম ও পণ্য দ্রব্য না করেও ঘরোয়া পদ্ধতিতেও ব্রণ দূর করা সম্ভব। তাছাড়া বাজারের ক্রিম ব্যবহার করলে অনেক সময় ত্বকের ক্ষতি হতে পারে, তাতে দেখা যায় ত্বকের উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হয়, আর ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই সমস্যাটি থাকে না।

Leave a Reply